বিড়াল মানুষের মতোই অসুস্থ হতে পারে এবং তাদেরও জ্বর উঠতে পারে। কিন্তু বিড়াল কথা বলতে পারে না বলে অনেক সময় বোঝা কঠিন হয়ে যায় যে তারা অসুস্থ। তাই লক্ষণ দেখে জ্বর শনাক্ত করা এবং দ্রুত সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব—বিড়ালের জ্বর হলে কীভাবে বুঝবেন, কী কারণে হয় এবং কী করণীয়।
-
Sale!

Smart Pocket Body Massager (3 Pad)
Original price was: 750.00৳ .450.00৳ Current price is: 450.00৳ . Contact us -
Sale!

5 Layer Pot Rack
Original price was: 2,550.00৳ .1,650.00৳ Current price is: 1,650.00৳ . Contact us -
Sale!

Furniture Easy Moving Tool Set
Original price was: 1,150.00৳ .750.00৳ Current price is: 750.00৳ . Contact us
বিড়ালের জ্বর কীভাবে বুঝবেন?
বিড়ালের স্বাভাবিক শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৫°F থেকে ১০২.৫°F। এর বেশি হলে তা জ্বর হিসেবে গণ্য হয়।
জ্বরের সাধারণ লক্ষণ:
- খাওয়া কমে যাওয়া
- পানি কম খাওয়া
- শরীর গরম লাগা
- নাক শুকনো থাকা
- বিছানায় লুকিয়ে থাকা
- দুর্বলতা ও ক্লান্তি
- চোখ আধবোজা ও অবসন্ন দেখানো
- অতিরিক্ত ঘুম
যদি এসব লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে ধরে নেওয়া যায় বিড়ালের জ্বর হয়েছে।
বিড়ালের জ্বরের কারণ
বিড়ালের জ্বর বিভিন্ন কারণে হতে পারে। সাধারণ কারণগুলো হলো—
✔ ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন
ফ্লু, ক্যালিসিভাইরাস, হেরপেস ভাইরাস ইত্যাদির কারণে জ্বর দেখা দিতে পারে।
✔ পরজীবী (Parasite)
ফ্লি, টিক বা অন্যান্য পোকামাকড়ের কারণে সংক্রমণ হলে জ্বর হয়।
✔ আঘাত বা ইনজুরি
খেলতে গিয়ে আঘাত পেলে শরীরে ইনফ্লেমেশন হয়ে জ্বর আসতে পারে।
✔ ঠান্ডা-লাগা বা সর্দি
বাতাসে ঠান্ডা লাগলে বিড়ালের সর্দি ও জ্বর হতে পারে।
✔ ভ্যাকসিনের প্রতিক্রিয়া
টিকা নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হালকা জ্বর দেখা দিতে পারে।
বিড়ালের জ্বর হলে করণীয় (What to Do)
🟩 ১. বিড়ালকে উষ্ণ রাখুন
মেঝেতে না শুইয়ে নরম ও উষ্ণ স্থানে রাখুন। ঠান্ডা বাতাস যেন না লাগে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
🟩 ২. পর্যাপ্ত পানি পান করান
জ্বরে ডিহাইড্রেশন বেশি হয়। তাই—
- পরিষ্কার পানি কাছে রাখুন
- চাইলে পানি গরম করে (গোলানো পানি) দিতে পারেন
যদি পানি না খায়, সিরিঞ্জ (সুঁচ ছাড়া) দিয়ে একটু একটু করে খাওয়াতে পারেন।
🟩 ৩. হালকা খাবার দিন
জ্বর থাকলে বিড়াল খাদ্যে বিরাগ দেখায়। তাকে—
- কুসুম গরম মুরগির স্যুপ
- নরম ভাত-মুরগি
- ভিজা ক্যাট ফুড
—এগুলো দিতে পারেন।
🟩 ৪. শরীর পরিষ্কার রাখুন
নাক বা চোখে পানি হলে নরম কাপড় ভিজিয়ে পরিষ্কার করে দিন। এতে শ্বাস নিতে সুবিধা হবে।
🟩 ৫. বিড়ালকে বেশি বিরক্ত করবেন না
জ্বরের সময় তারা বেশি ঘুমাতে চায়। তাদের শান্তিতে থাকতে দিন।
❌ যা করবেন না
🚫 ১. নিজে থেকে ওষুধ দেবেন না
মানুষের ওষুধ যেমন—
- প্যারাসিটামল
- নাপা
- অ্যাসপিরিন
—এসব বিড়ালের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। সামান্য অতিরিক্ত মাত্রায়ও প্রাণঘাতী হতে পারে।
কোনো অবস্থাতেই ভেটেরিনারি পরামর্শ ছাড়া ওষুধ দেবেন না।
🚫 ২. ঠান্ডা পানি ঢালবেন না
অনেকে জ্বর কমাতে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করেন—এটি ভুল। বিড়াল আরও অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
কখন ভেটেরিনারির কাছে নিয়ে যাবেন?
নিচের পরিস্থিতিতে দেরি না করে অবিলম্বে ভেটেরিনারির কাছে যান—
- জ্বর ২৪ ঘণ্টার বেশি থাকে
- বিড়াল একেবারেই খাচ্ছে না
- শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে
- শরীর খুব বেশি গরম
- বমি/ডায়রিয়া হচ্ছে
- চোখ ও নাক দিয়ে বেশি পানি পড়ছে
- খুব দুর্বল বা অচেতন মতো লাগছে
ভেট ডাক্তার প্রয়োজনে—
- জ্বর কমানোর ইনজেকশন
- অ্যান্টিবায়োটিক
- স্যালাইন
- রক্ত পরীক্ষা
—করতে পারেন।
বিড়ালের জ্বর প্রতিরোধের উপায়
- নিয়মিত টিকা দিন
- ফ্লি/টিক প্রতিরোধক ব্যবহার করুন
- পরিষ্কার পরিবেশে রাখুন
- ঠান্ডা বাতাসে বেশি সময় থাকতে দেবেন না
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
বিড়ালের জ্বর সাধারণ একটি সমস্যা হলেও সঠিক যত্ন না নিলে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিড়ালকে উষ্ণ রাখা, পানি খাওয়ানো এবং বিশ্রাম দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘসময় জ্বর থাকলে অবশ্যই ভেটেরিনারি চিকিৎসা নিতে হবে।
