শিশুরা জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসে অনেকটাই সংবেদনশীল হয়। বিশেষ করে ২ মাসের শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও সম্পূর্ণভাবে গড়ে উঠেনি। তাই এই সময়ে কাশি, সর্দি বা অন্য কোন সাধারণ অসুস্থতা হলেও দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি।
১. কাশির ধরন বোঝা জরুরি
শিশুর কাশির ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রধানত এটি তিন ধরনের হতে পারে:
- শুকনো কাশি: সাধারণত গলা খোসখোস করছে এমন অনুভূতি তৈরি করে।
- ভেজা কাশি (Phlegm/Wet cough): কাশির সাথে লালচে বা সাদা শ্লেষ্মা আসে।
- অ্যালার্জি বা সংক্রমণজনিত কাশি: হঠাৎ কাশি, জলনয়ন, চোখে পানি আসা ইত্যাদি লক্ষণ থাকে।
২. চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
২ মাসের শিশুদের জন্য কাশি সাধারণত ঘরোয়া ওষুধে প্রতিকারযোগ্য হলেও, এই বয়সে কোনো ওষুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই পেডিয়াট্রিশিয়ানের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ ছোট শিশুদের শরীর অতি সংবেদনশীল এবং অনেক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।
৩. ঘরোয়া যত্ন
- নাক পরিষ্কার রাখা: নাক বন্ধ থাকলে শিশুর শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। নরম স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করে নাক পরিষ্কার করতে পারেন।
- বাতাস পরিস্কার রাখা: শিশুর ঘরে ধুলো, ধোঁয়া বা অ্যালার্জেন থাকলে তা কমানো জরুরি।
- উঁচু অবস্থায় ঘুমানো: শিশুকে সামান্য উঁচু অবস্থায় শুইয়ে দিলে শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ হয়।
- ভাপ দেওয়া (Steam): শিশুর বাথরুমে গরম পানির ভাপ নেবার ব্যবস্থা করতে পারেন।
৪. সতর্কতার লক্ষণ
যদি শিশুর কাশির সাথে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন:
- নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া
- বুক ঢেকে যাওয়া বা হিঁহিঁ শব্দ করা
- জ্বর (Temperature বেশি হওয়া)
- ঘন, সবুজ বা হলুদ শ্লেষ্মা যুক্ত কাশি
- খাওয়ায় অনীহা বা অসুস্থতা
৫. ওষুধের ব্যবহার
- এই বয়সে কাশি ও সর্দির জন্য কোনও সাধারণ ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ দেবেন না।
- শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে শিশু ওষুধ ব্যবহার করা উচিত।
- প্রয়োজন হলে ডাক্তার শিশু উপযোগী সিরাপ বা নাকের ড্রপ দিতে পারেন।
৬. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
- শিশুর ঘর পরিষ্কার ও ধুলোমুক্ত রাখা
- শিশুকে ধোঁয়া বা ধূমপায়ু থেকে দূরে রাখা
- হাত ও নখ পরিষ্কার রাখা
২ মাসের শিশুর কাশি সাধারণত বড় সমস্যার কারণ না হলেও সতর্ক থাকা জরুরি। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো দ্রুত পেডিয়াট্রিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া এবং ঘরোয়া যত্নের মাধ্যমে শিশুকে স্বস্তি দেওয়া।
