বিড়াল কামড়ালে কত দিনের মধ্যে টিকা দিতে হয়

বিড়াল কামড়ালে কত দিনের মধ্যে টিকা দিতে হয়

বিড়াল আমাদের প্রিয় পোষা প্রাণী হলেও কখনো কখনো তারা কামড়ে বা আঁচড় দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই নিবন্ধে আমরা জানবো বিড়াল কামড়ালে কখন এবং কেন টিকা দিতে হয়, এবং কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ

বিড়াল কামড়ানোর সাথে সাথে প্রথম কাজ হলো ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা। সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে কমপক্ষে ১৫ মিনিট ধরে ক্ষতস্থান ধুয়ে ফেলুন। এরপর অ্যান্টিসেপ্টিক দিয়ে পরিষ্কার করুন। এটি সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

টিকা দেওয়ার সময়সীমা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে

বিড়াল কামড়ানোর পর যত দ্রুত সম্ভব, আদর্শভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র‍্যাবিস প্রতিরোধক টিকা নিতে হবে। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও টিকা নেওয়া যায় এবং নেওয়া উচিত। র‍্যাবিস একটি মারাত্মক রোগ যা উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর প্রায় শতভাগ মৃত্যুর কারণ হয়, কিন্তু সঠিক সময়ে টিকা নিলে এটি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধযোগ্য।

কেন টিকা নেওয়া জরুরি

বিড়াল র‍্যাবিস ভাইরাসের বাহক হতে পারে, যা তাদের লালার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় র‍্যাবিস একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এমনকি পোষা বিড়াল যদি টিকা নেওয়া না থাকে বা বাইরে যাওয়ার সুযোগ পায়, তাহলেও তারা সংক্রমিত হতে পারে।

কোন কোন ক্ষেত্রে টিকা আবশ্যক

  • যেকোনো বন্য বা অপরিচিত বিড়ালের কামড় বা আঁচড়
  • এমন পোষা বিড়ালের কামড় যার র‍্যাবিস টিকা দেওয়ার ইতিহাস জানা নেই
  • ত্বক ভেদ করে এমন যেকোনো কামড়
  • বিড়ালের লালা খোলা ক্ষত বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে লাগলে

টিকার ডোজ এবং সময়সূচি

আধুনিক র‍্যাবিস টিকার কোর্সে সাধারণত চারটি ডোজ দেওয়া হয়:

  • প্রথম ডোজ: কামড়ানোর দিন (০ দিন)
  • দ্বিতীয় ডোজ: ৩ দিন পর
  • তৃতীয় ডোজ: ৭ দিন পর
  • চতুর্থ ডোজ: ১৪ দিন পর

গুরুতর ক্ষেত্রে চিকিৎসক র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিনও দিতে পারেন, যা তাৎক্ষণিক সুরক্ষা প্রদান করে।

অতিরিক্ত সতর্কতা

বিড়াল কামড়ানোর ঘটনায় শুধু র‍্যাবিসই নয়, ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে। বিড়ালের দাঁত সরু এবং তীক্ষ্ণ হওয়ায় ক্ষত গভীর হতে পারে। যদি ক্ষতস্থান ফুলে যায়, লাল হয়, ব্যথা বাড়ে বা জ্বর আসে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।

টিকা কোথায় পাওয়া যায়

সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বেশিরভাগ জেলা সদর হাসপাতালে র‍্যাবিস টিকা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকেও এই টিকা পাওয়া যায়।

প্রতিরোধ

সর্বোত্তম উপায় হলো প্রতিরোধ। নিজের পোষা বিড়ালকে নিয়মিত র‍্যাবিস টিকা দিন। অপরিচিত বা বন্য বিড়ালের কাছে সতর্কতার সাথে যান। বিড়ালের সাথে খেলার সময় সাবধান থাকুন, বিশেষত যদি তারা বিরক্ত বা ভয় পেয়ে থাকে।

বিড়াল কামড়ানো একটি সাধারণ ঘটনা হলেও এটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। মনে রাখবেন, সময়মতো টিকা নেওয়াই র‍্যাবিস থেকে বাঁচার একমাত্র নিশ্চিত উপায়। দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা কেন্দ্রে যান এবং সম্পূর্ণ টিকার কোর্স সম্পন্ন করুন। আপনার এবং আপনার পরিবারের সুস্বাস্থ্যের জন্য এই সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top