বাচ্চাদের সর্দি কাশির ঔষধের নাম

বাচ্চাদের সর্দি কাশির ঔষধের নাম

বাচ্চাদের সর্দি-কাশি সাধারণ সমস্যা হলেও ভুল ঔষধ সেবন তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই আর্টিকেলে আমরা বাচ্চাদের সর্দি-কাশির প্রচলিত কিছু ঔষধের গ্রুপ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কে আলোচনা করব।

বাচ্চাদের সর্দি-কাশির ঔষধের নাম ও সঠিক ব্যবহার

বাচ্চাদের জন্য কোনো ঔষধ কেনার আগে মনে রাখবেন, তাদের বয়স এবং ওজন অনুযায়ী ডোজ ভিন্ন হয়। নিচে সাধারণ কিছু ঔষধের ধরন দেওয়া হলো:

১. সর্দি ও এলার্জির জন্য (Antihistamine)

সর্দি থেকে নাক বন্ধ হওয়া বা হাঁচি হলে সাধারণত নিচের গ্রুপের ঔষধগুলো চিকিৎসকরা দিয়ে থাকেন:

  • সিরাপ ফেক্সোফেনাডিন (Fexofenadine): (যেমন: Fexo) এটি এলার্জি এবং সর্দি কমাতে বেশ কার্যকর।
  • সিরাপ সেটিরিজিন (Cetirizine): (যেমন: Alatrol) রাতে ঘুমানোর আগে সর্দি ও কাশির অস্বস্তি কমাতে এটি দেওয়া হয়।
  • সিরাপ ডেসলোরাটাডিন (Desloratadine): (যেমন: Deslor) সর্দি ও চুলকানি কমাতে এটি ব্যবহৃত হয়।

২. কাশির জন্য (Cough Syrup)

কাশির ধরণ বুঝে ঔষধ আলাদা হয়:

  • শুষ্ক কাশির জন্য: কাশির বেগ কমাতে অনেক সময় লেভোড্রোপ্রোপিজিন (Levodropropizine) জাতীয় সিরাপ দেওয়া হয়।
  • শ্লেষ্মা বা কফযুক্ত কাশির জন্য: বুক থেকে কফ বের করতে ব্রোমহেক্সিন (Bromhexine) বা অ্যামব্রোক্সল (Ambroxol) গ্রুপের সিরাপ দেওয়া হয় (যেমন: Adryl বা Ambrol)।

৩. নাক বন্ধ হয়ে গেলে (Nasal Drops)

বাচ্চাদের নাক বন্ধ থাকলে তারা শ্বাস নিতে কষ্ট পায় এবং দুধ খেতে পারে না। এক্ষেত্রে নিরাপদ হলো:

  • নরমাল স্যালাইন ড্রপ (Normal Saline Drop): (যেমন: Solas বা Nasalmist) এটি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই নাক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা (অবশ্যই পড়ুন)

সতর্কতা: ১ বছরের নিচে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো কাশি বা সর্দির সিরাপ দেওয়া একদমই উচিত নয়।

১. অ্যান্টিবায়োটিক: সর্দি-কাশি সাধারণত ভাইরাসজনিত কারণে হয়, তাই শুরুতেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ২. ডোজ নির্ধারণ: শিশুর ওজন অনুযায়ী ঔষধের পরিমাপ ঠিক করা হয়। তাই প্যাকেটের গায়ে লেখা দেখে বা ফার্মেসি থেকে শুনে আন্দাজে ঔষধ খাওয়ানো বিপজ্জনক। ৩. পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: সর্দির ঔষধ খাওয়ালে বাচ্চাদের অনেক সময় ঘুম বেশি হয় বা ঝিমুনি আসে, এটি স্বাভাবিক।

ঘরোয়া কিছু প্রতিকার

ঔষধের পাশাপাশি ঘরোয়া যত্নে দ্রুত ফল পাওয়া যায়:

  • কুসুম গরম পানি: শিশুকে অল্প অল্প কুসুম গরম পানি পান করান।
  • মধু ও তুলসী: ১ বছরের বেশি বয়সের বাচ্চাদের এক চামচ মধু এবং তুলসী পাতার রস খাওয়ানো যেতে পারে।
  • লবণ পানির ভাপ: ছোট বাচ্চাদের জন্য নেবুলাইজার বা বড়দের ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানির ভাপ (স্টিম) দিলে নাক পরিষ্কার হয়।

উপরে উল্লিখিত ঔষধের নামগুলো শুধুমাত্র আপনার ধারণা দেওয়ার জন্য। বাজারে একই ঔষধ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে পাওয়া যায়। আপনার শিশুর সর্দি-কাশি যদি ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হয় বা সাথে জ্বর থাকে, তবে দ্রুত একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top